Cited from ROSH-ALO/Prothom-ALO #92 on 23 nov 2009.(partly modified for a better parody)

গরু একটি গোয়ালপালিত পশু। তবে গোয়াল না থাকলে বাইরে খুটিতেও বেঁধে রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে চুরি হওয়া কিংবা দড়ি ছিঁড়ে চম্পট দেওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় দায়দায়ীত্ব আপনার।

গরুর পা আছে ঠিকই, কিন্ত তাদের সম্প্রদায়ে জুতা পরার সিস্টেম চালু না থাকায় এ পর্যন্ত কোনো গরুকেই কখনো জুতা পরতে দেখা যায় না। এরা জুতা পরলে অবশ্য জুতার ক্ষেত্রে ‘জোড়া’ শব্দটি চালু না হয়ে ‘হালি’ শব্দটি চালু হতে পারত।

গরুর দুটি শিং রয়েছে। এই শিং নামক দুটি অস্ত্র রাখার দায়ে কোনো গরুকে এ পর্যন্ত জেলহাজত কিংবা অন্য কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে শুনা যায় নি। গরুর বিশাল একটা মাথা রয়েছে।

মাথার উপর হাল্কা চুল থাকলেও বড় কোনো চুল নেই, কারণ গরুরা ইচ্ছে করেই চুল বড় করে না। আর বড় করে না এই জন্য, যেহেতু বাজারে এখনো তাদের চুলের যত্নে কোনো শাম্পু কেনাবেচা হচ্ছে না।

গরুর মেগা সাইজের একটা ভুঁড়ি আছে। এই ভুঁড়ি কমাতে তারা কোনো যানবাহনে না চড়ে হেঁটে যাতায়াত করে। গরু তাদের মাথায় লম্বা চুল না রাখলেও লেজের মাথায় লম্বা কতগুলো চুল রাখে, যাতে মশামাছি গায়ে বসামাত্র কষিয়ে বাড়ি মারতে পারে। মেয়ে গরুকে গরু সম্প্রদায়ের পরিভাষায় বলা হয় গাই। তাদের নামে বাংলাদেশের একটা জেলারও নামকরণ করা হয়েছে ‘গাইবান্ধা’।

টিসু বা রুমাল না থাকায় গরুরা মন খুলে কাঁদতে পারে না।
টিসু বা রুমাল না থাকায় গরুরা সর্দি মুছতে পারে না। সে কারণে নিজের জিহবা-ই ব্যবহার করতে হয় সময়ে অসময়ে।

গরু সাংঘাতিক উপকারী প্রাণী। গরু আমাদের চারপাশের ঘাস, লতাপাতা খেতে গিয়ে শাকশব্জিও খেয়ে ফেলে। ফলে আমাদের বাড়িতে কেউ শাক রান্না করতে চাইলেও করতে পারেন না। শাক খেতে যা বিশ্রী লাগে! এমনিতে খালাতো বোনের সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোরবানীর ঈদে গরুর মাংস নিয়ে আসার ছুতোয় আমরা সহজেই দেখাটা করে ফেলতে পারি।

তবে গরুর কিছু অপকারী দিকও আছে। গরু নামে পৃথিবীতে একটা প্রাণী আছে বলেই শিক্ষকরা আমাদের ‘গরু’ বলে সম্বোধন করেন। যা অতিশয় মর্মবেদনাদায়ক। গরু খানিকটা বেয়াদব কিসিমের প্রাণী। কারণ সে কোনো রকম আদব-কায়দার ধার না ধেরে মাঝেমধ্যে এমন জোরে লাত্থি মারে যে নিজেকে তখন মনে হয় ফুটবল জাতীয় একটা কিছু। বিষয়টা একটু লজ্জাকর বৈকি।

পরিশেষে বলা যায়, গরুর ছোটখাটো অপরাধ থাকলেও প্রাণী হিসেবে গরু কিন্ত ভালোই। যে কারণে শুধু কোরবানীর বাজারেই নয়, কবিদের কবিতার বাজারেও গরুর ভাল একটা ডিমান্ড আছে। তাই তো জনৈক অখ্যাত কবি তার এক জবরদস্ত কবিতায় এভাবে রশি ধরে টেনে এনেছেন গরুকে – ‘তুমি সাগর, আমি মরু / ছিলাম ছাগল, হলাম গরু’